সত্যকে আড়াল করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী

ইসলামপুরে তিন ছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আপাতত উত্তপ্ত এই রাজ্যের রাজনীতি। ইসলামপুরের দাড়িভিট গ্রামে বাংলা শিক্ষকের দাবিতে স্কুল পড়ুয়াদের আন্দোলনের ওপর পুলিশি হামলা এবং শেষ পর্যন্ত গুলি চালনা ও তার ফলশ্রুতিতে তিন ছাত্রের মৃত্যু—এই সমগ্র ঘটনাই অতীব দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়ও বটে। দাড়িভিট বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা যে খুব অন্যায্য আন্দোলন করছিল, তা বলা যাবে না। এই বিদ্যালয়ে বাংলা, বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ের শিক্ষকের অভাব বহুদিনের। সেই অভাব পূরণ না করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করেই একজন উর্দু এবং একজন সংস্কৃত শিক্ষক নিয়োগ করে বসে। অবাক কাণ্ড এই যে, ওই স্কুলে উর্দু পড়ার একজনও ছাত্র-ছাত্রী নেই। ছাত্র-ছাত্রীদের ন্যায্য দাবিকে গুরুত্ব না দিয়ে, হঠাৎ করেই অন্য বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ, যার কোনও প্রয়োজনই নেই, এই বিষয়টিই সবিশেষ বিস্ময়ের উদ্রেক করে এবং সেই সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য সম্বন্ধেও সংশয়ের জন্ম দেয়। এই ঘটনায় দাড়িভিট স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা যথেষ্টই ক্ষুব্ধ হয় এবং গত বৃহস্পতিবার তারা স্কুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। ছাত্র-ছাত্রীদের এই আন্দোলন কোনও অর্থেই রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল না। আন্দোলনটি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। বিভিন্ন বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমের দেখানো ছবিতে পরিষ্কার বোঝা গিয়েছে, ছাত্র-ছাত্রীদের এই বিক্ষোভকে দমন করতে পুলিশ কী অমানবিক ভূমিকা সেদিন নিয়েছিল। ছবিতেই দেখা গিয়েছে, মাঠের ওপর দিয়ে জোরে জিপ ছুটিয়ে পুলিশ প্রথম থেকেই স্পষ্টত ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিকভাবে জখম করতে উদ্যত হয়েছিল। ছাত্রীদের ওপর পুলিশের শারীরিক নিগ্রহও কারও নজর এড়ায়নি এবং সর্বশেষে গুলি চালনা। একটি বিদ্যালয়ে ঢুকে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন দমন করার নামে পুলিশের এই নির্মম এবং অমানবিক আচরণের নিন্দা করার জন্য কোনও কটূ ভাষাই যথেষ্ট নয়।

কিন্তু এই ঘটনার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর আচরণ? ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের ওপর অযথা রাজনৈতিক রং চাপিয়ে দিয়ে তাদের ন্যায্য দাবিটিকে অস্বীকার করতে চাওয়া এবং তাদের সর্বসমক্ষে হেয় করার চেষ্টা সর্বাধিক নিন্দনীয়। দাড়িভিট বিদ্যালয়ে পুলিশের গুলি চালনার পর মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী সেই কাজটিই করতে নেমেছেন। বৃহস্পতিবার পুলিশের গুলি চালনায় একজন ছাত্রের মৃত্যু হয়। পরে গুলিতে আহত আরও দু’জন হাসপাতালে মারা যায়। ঘটনার চব্বিশ ঘন্টা পর পুলিশ দাবি করতে থাকে, তারা গুলি চালায়নি। জেলার পুলিশ সুপার সাংবাদিক সম্মেলন করে এই দাবি জানান। এবং সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে পুলিশ সুপার কার্যত সাংবাদিকদের সামনে থেকে পালিয়ে যান। ঘটনার দু’দিন পরে, ইউরোপের মিলান থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানিয়ে দেন, পুলিশ কোনও গুলি চালায়নি। প্রশ্নটা এখানেই উঠছে। গুলিতে নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবার-পরিজন এবং এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা স্পষ্টতই জানাচ্ছেন, পুলিশ গুলি চালিয়েছে। পুলিশকে তাঁরা গুলি চালাতে দেখেছেন। বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে যাঁরা সেদিনের ঘটনার ছবি দেখেছেন, তাঁরাও স্পষ্টত বুঝতে পারবেন—ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর শারীরিক আঘাত করার লক্ষ্যেই পুলিশ সেদিন অভিযান চালিয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে কর্ণপাত না করে পুলিশের গুলি চালনার অভিযোগ প্রথমত উড়িয়ে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী—যিনি ঘটনাস্থল থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে ইউরোপের মিলানে ছুটি উপভোগ করছেন। আর দ্বিতীয়ত পুলিশ, যারা অভিযুক্তের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে। প্রশ্ন হচ্ছে যে, মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী যদি পুলিশ গুলি না চালিয়েই থাকে, তাহলে গুলিটা চালাল কে? এক্ষেত্রে সেই নন্দীগ্রামের মুখ ঢাকা, চটি পরা পুলিশ গুলি চালিয়ে, মানুষ মেরে আন্দোলন দমন করেছিল। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দল ক্ষমতায় আসার পরপরই সিপিএমের ছেড়ে যাওয়া জুতোয় পা গলিয়েছেন। ফলে সেই মুখ ঢাকা পুলিশ এবার তাদের হয়ে দাড়িভিট গ্রামে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন দমন করতে নামল না কেন—মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তাঁর বক্তব্যের ভিতর দিয়ে এ সন্দেহ উসকে দিচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, মিলানে অবস্থানরত মুখ্যমন্ত্রী জানলেন কী করে, পুলিশ গুলি চালায়নি। কোনও তদন্ত হয়েছে এই ঘটনার? পুলিশ কখনওই নিজের অপরাধ স্বীকার করবে না—সেটাই স্বাভাবিক। মুখ্যমন্ত্রী ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর গুলি চালনার ঘটনার একটি তদন্তের নির্দেশ দিতেই পারতেন। তারপর তদন্তের রিপোর্ট হাতে নিয়ে তিনি মন্তব্য করতেই পারতেন। তা না করে কোনওরকম তদন্তের আগেই মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের মন্তব্য যে পুলিশকে আড়াল করতে এবং ভবিষ্যতে সমস্তরকম তদন্তকে প্রভাবিত করতে—তা বুঝতে কষ্ট হয় না। এরপর যদি মুখ্যমন্ত্রী সিআইডি বা রাজ্য পুলিশকে দিয়ে এই ঘটনার তদন্ত করাতে চান—তাহলে সে তদন্তের ওপর আস্থা-ভরসা রাখা যায় না। কারণ, সিআইডি এবং রাজ্য পুলিশের ঘাড়ে মাথা একটিই। তারা মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তত্ত্বের বিরোধিতা করতে যাবে না। বরং পুলিশ যে গুলি চালায়নি—তা প্রমাণ করতেই এরা সচেষ্ট হবে। বোঝাই যাচ্ছে, ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে প্রথম থেকেই মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং আসরে অবতীর্ণ হয়েছেন। কাজেই এই ঘটনার প্রকৃত তদন্ত যদি করতেই হয়, তাহলে রাজ্য পুলিশ বা সিআইডি নয়, তদন্ত হবে সিবিআইকে দিয়ে। ইতিমধ্যে সে দাবি মৃত ছাত্রদের পরিবার-পরিজন এবং দাড়িভিট গ্রামের বাসিন্দারা করতে শুরু করেছেন। সিবিআই তদন্তের দাবিতে নিহত দুই ছাত্র রাজেশ এবং তাপসের দেহ দাহ না করে মাটিতে পুঁতে রেখেছেন তাদের পরিজনেরা। এই ঘটনাটিও অভূতপূর্ব। কেননা, ইতিপূর্বে কখনও সিবিআই তদন্তের দাবিতে, কোনও হিন্দুর মৃতদেহ দাহ না করে মাটি চাপা দিয়ে রাখার মতো সাহস দেখাননি কোনও মৃতের পরিবার-পরিজন।

প্রশ্ন আরও আছে। পুলিশের গুলিতে নিহত রাজেশের মা বলেছেন, গুলি লাগার পর রাজেশকে যখন একটি গাড়ি করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন পথে একটি গ্রামে গাড়িটি আটকে রাখা হয় বেশ কিছুক্ষণ। যাঁরা রাজেশকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন তাঁদের মারধরও করা হয়। এমনকী, গুলিবিদ্ধ রাজেশকেও মারধর করা হয়। রাজেশের মা অভিযোগ করেছেন, রাজেশের দেহে সেই মারধরের চিহ্ন রয়েছে। এইসব ঘটনার পর যখন রাজেশকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, ততক্ষণে রাজেশের মৃত্যু ঘটেছে। মৃত রাজেশের মায়ের এই অভিযোগটি উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। অভিযোগটি মারাত্মক। এখানেও একটি প্রশ্ন আছে—রাজেশকে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন পুলিশ কী করছিল? গুলিবিদ্ধ রাজেশকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দায় পুলিশ এড়াবে কী করে? মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে কারা হামলা করেছিল, এ নিয়ে পুলিশের কী বক্তব্য? মৃত রাজেশের মা-র অভিযোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশ দু’পক্ষেরই মুখে কুলুপ কেন? পুলিশ গুলি চালায়নি বলে আগাম রায় দিয়ে দিচ্ছেন তারা। অথচ এরকম একটি মারাত্মক অভিযোগ সম্বন্ধে তারা নিশ্চুপ। এই ঘটনাটিরও তদন্ত হওয়া দরকার।

মিলানে বসে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, দাড়িভিটার এই ঘটনার সঙ্গে আরএসএস এবং বিজেপি জড়িত। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘আরএসএস এবং বিজেপির প্ররোচনাতেই এই পরিণতি। বাংলায় সাম্প্রদায়িকতার আগুন ছড়াতে দেব না।’ মুখ্যমন্ত্রীর আরও বক্তব্য, ‘বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে লোক ঢুকিয়ে অশান্তি করা হয়েছে। মারাত্মক অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এই অভিযোগের সারবত্তা কতখানি? বৈদ্যুতিন মাধ্যমে যাঁরা দাড়িভিট গ্রামের ঘটনার ছবি দেখেছেন, তাঁরাই বুঝেছেন। স্কুলের ইউনিফর্ম পরে ছাত্র-ছাত্রীরাই বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল। সেখানে বহিরাগতদের উপস্থিতি কোথা থেকে পেলেন মুখ্যমন্ত্রী, সেটিই বোঝা যাচ্ছে না। স্থানীয় মানুষরাও বলেছেন, বিক্ষোভটি ছাত্র-ছাত্রী এবং স্থানীয় মানুষদেরই ছিল। অর্থাৎ, মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে তাঁরা কেউই মানতে চাইছেন না। তাহলে প্রশ্ন, আরএসএস এবং বিজেপির নাম জড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই অভিযোগ আনলেন কোন তথ্যের ভিত্তিতে? কোন তদন্তে উঠে এসেছে আরএসএস-বিজেপির নাম? রাজ্যের মানুষ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে মনগড়া অভিযোগ শুনতে পছন্দ করেন না। অবশ্য মানুষের পছন্দ-অপছন্দের তোয়াক্কা না করেই মুখ্যমন্ত্রী ইতিপূর্বেও বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ মনগড়া অভিযোগ করেছেন। তিনি যে অভিযোগ এনেছেন, তার সত্যতা যদি প্রমাণ করতে না পারেন, তাহলে প্রকাশ্যে ক্ষমাপ্রার্থনা করবেন তো মুখ্যমন্ত্রী? সে রাজনৈতিক সততা কি তাঁর আছে? মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের অভিযোগ করার উদ্দেশ্য অবশ্য পরিষ্কার। ঘটনাটিতে তিনি একটি রাজনৈতিক রং চড়াতে চাইছেন। রাজনৈতিক রং চড়ালে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করা যাবে। আড়াল করা যাবে প্রকৃত দোষীদের। ছাত্র-ছাত্রীদের ন্যায্য দাবিটিকেও অস্বীকার করা যাবে। দাড়িভিটের এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক রং চড়ানোর প্রচেষ্টা অতীব হীন, অতীব নিন্দনীয়।

এই রাজ্রের একজন শিক্ষামন্ত্রী আছেন। এই শিক্ষামন্ত্রীর কথা যত কম বলা যায়, ততই ভালো। রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রটিকে গঙ্গাযাত্রা করিয়ে তিনি আত্মসুখে নিমগ্ন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং চূড়ান্ত ব্যর্থ শিক্ষামন্ত্রীটি বলেছেন, কোন শিক্ষক পড়াতে আসবেন না, তা ছাত্ররা ঠিক করবে নাকি? মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী কি জানেন, ওই দাড়িভিট বিদ্যালয়ে বাংলা পড়ানোর শিক্ষক নেই? বাংলা পড়ানোর শিক্ষকের দাবিতে ছাত্র-ছাত্রীরা যদি আন্দোলন করে, তাহলে তাকে কোন যুক্তিতে অন্যায্য বলেন মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী? একটি ন্যায্য দাবিকে অস্বীকার করারই প্রচেষ্টা নয় কি এটা? মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী আরও একটি অত্যাশ্চর্য কথা বলেছেন। তাঁরা বলেছেন, ‘এক বিষয়ের শিক্ষক অন্য বিষয় পড়াতেই পারেন।’ এরপর তো তাঁরা কোনওদিন বলবেন, ড্রয়িং শিক্ষক অঙ্কের ক্লাস নেবেন। প্রকৃত সমস্যাকে এড়িয়ে গিয়ে প্রলাপ বকার এ-একটি অনন্য উদাহরণ। এ কথা তারাই বলতে পারেন, যারা পাড়ার ক্লাব এবং সরকার পরিচালনা করার পার্থক্য বোঝেন না। এরই ভিতর স্কুল পরিচালন সমিতির এক সদস্য অভিযোগ করেছেন, পরিচালন সমিতির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল উর্দু এবং সংস্কৃত শিক্ষককে ফেরত পাঠানো হবে। তারপরও পরিচালন সমিতির অধিকাংশ সদস্যকে অন্ধকারে রেখে কেন ওই দুই শিক্ষককে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল? কে নিয়েছিল? পরিচালন সমিতির সদস্য তপন কুমার মজুমদার বলেছেন, এই কারণেই তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহ-প্রধান শিক্ষক এবং জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইসলামপুর থানা সেই অভিযোগ নেয়নি। কেন অভিযোগ গ্রহণ করেনি থানা? কী উদ্দেশ্য?

এসবেই পরিষ্কার, দাড়িভিট বিদ্যালয়ের ঘটনায় কোনও সত্যকে আড়াল করতে আসরে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং পুলিশ আধিকারিকরা। আর সত্যকে আড়াল করতেই ছাত্রছাত্রীদের ন্যায্য দাবিকে অস্বীকার করে এই ঘটনায় রাজনৈতিক রং চড়ানোর চেষ্টা চলছে। চেষ্টা চলছে পুলিশের গুলি চালনাকে চাপা দেওয়ার। এই অপচেষ্টা যাঁরা করছেন, সেই মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং পুলিশ আধিকারিকরা—বলতেই হচ্ছে, অসহায়, নিরীহ কিছু স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি অমানবিকতারই পরিচয় দিচ্ছেন তাঁরা। এই অমানবিকতাকে গণতন্ত্র ক্ষমা করবে না।