‘মেহেরাম’ ছাড়া হজে যাওয়ার তালিকায় মুসলিম মহিলাদের মধ্যে কেরল আর পশ্চিমবঙ্গই এগিয়ে

মোদী বিরোধীরা কি বুঝতে পারছেন মুসলিম মহিলারা কি চাইছেন?

মুসলিম মহিলাদের অধিকার রক্ষা বা ‘তিন তালাক’ আইন নিয়ে সংসদ যখন তোলপাড়, তখন বিরোধিরা কি দেওয়াল লিখন পড়তে পারছেন? মোদী সরকারের মুসলিম মহিলাদের জন্য দ্বিতীয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার, মুসলিম মহিলাদের ‘মেহেরাম’ ছাড়া হজে যাওয়ার অনুমোদনে কিভাবে সাড়া পড়ছে? পরিসংখ্যান বলছে, সবচেয়ে বেশি মুসলিম মহিলারা যে দুটি রাজ্য থেকে অভিভাবক ছাড়া হজে যাওয়ার জন্য অনুমতি চেয়েছেন, সেই দুটি রাজ্য হলো কেরল এবং পশ্চিমবঙ্গ।

বাম শাসিত কেরালা থেকে ১১২০ জন মহিলা এই নতুন বিধির সুযোগ নিয়ে হজে যাওয়ার সুযোগ চেয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে তুলনায় অনেক কম, ৪৮ জন মুসলিম মহিলা ‘মেহেরাম’ ছাড়া হজে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছেন। অর্থাৎ যে দুই রাজ্যের সাংসদরা রাজ্যসভায় ‘তিন তালাক’ বিলকে সিলেক্ট কমিটিতে পাঠাতে বদ্ধপরিকর, সেই দুটি রাজ্যের মুসলিম মহিলারাই কিন্তু কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের দেওয়া সুযোগের সদ্‌ব্যবহার করতে লাফিয়ে এগিয়ে এসেছে।

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, যে সব রাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা অনেক বেশি, যেমন জম্মু-কাশ্মীর কিংবা আসাম, সেই সব রাজ্য থেকে মাত্র ৪ জন করে মহিলা ‘মেহেরাম’ ছাড়া হজে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। এমনিতেই এবছর ১৩০০ জন মুসলিম মহিলা এই নতুন বিধি অনুযায়ী হজে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। এই সংখ্যাটা গত বছর পর্যন্ত যতজন মহিলা ‘মেহেরাম’ সহ হজে যেতে চাইতেন, তার প্রায় তিনগুণ।

মুসলিম মহিলাদের এই আগ্রহ দেখে উৎসাহিত নরেন্দ্র মোদী সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাঁরা এই নতুন বিধি অনুযায়ী হজে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদেরকে কোনও লটারির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে না। অর্থাৎ, হজে যেতে গেলে মুসলিমদের যে লটারি প্রথার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, এবার যে মুসলিম মহিলারা ‘মেহেরাম’ ছাড়া হজে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন, তাঁরা সেই লটারি প্রথার মধ্যে পড়ছেন না।

আমি যুগশঙ্খ পত্রিকাতেই উত্তর সম্পাদকীয়তেই লিখেছিলাম, মুসলিম মহিলাদের জন্য এই হজে যাওয়ার অধিকার মোদী সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার। এবং ‘দেওবন্দ’ বা অন্যান্য কট্টরপন্থী মুসলিম উলেমাদের আপত্তি অগ্রাহ্য করে মোদী সরকার এই সিদ্ধান্তকে কার্যকর করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেও ৩১শে ডিসেম্বর, বছরের শেষ ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে এই ‘মেহেরাম’ ছাড়া মুসলিম মহিলাদের হজে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

কংগ্রেস বা আরসাউদ্দিন ওয়াইসি অবশ্য মোদী সরকারের সাফল্যকে লঘু করার জন্য বলেছেন, আসলে এই কৃতিত্ব সৌদি সরকারের। এবং সৌদি সরকার ২০১৪ সালে ৪৫ বছরের বেশি বয়সী মুসলিম মহিলাদের জন্য এই ‘মেহেরাম’ ছাড়া হজে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন বলেই ভারতীয় মুসলিম মহিলারা যেতে পারছেন। ঠিকই, হজে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে কোনও বিধিনিষেধ সৌদি আরব সরকারই তৈরি করতে পারে। এবং সৌদি আরব ‘মেহেরাম’ ছাড়া ৪৫ বছরের বেশি বয়সী মুসলিম মহিলাদের হজে যাওয়ার অনুমতি দেয় বলেই গোটা বিশ্বের মুসলিম মহিলারা এই সুযোগ পান।

কংগ্রেস বা এমআইএম নেতা ওয়াইসি যদি আগে থেকেই সৌদি আরবের এই বিধি পরিবর্তণের কথা জানতেন, তাহলে তাঁরা এতদিন ভারতবর্ষের মুসলিম মহিলাদের জন্য এই সুযোগ দেওয়ার জন্য সুপারিশ কেন করেননি? কংগ্রেসের তাবড় তাবড় মুসলিম নেতারা কেন চিঠি লিখে হজ কমিটিকে মুসলিম মহিলাদের এই অধিকার দেওয়ার কথা বলেন নি? কেন শেষ পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদীর সরকারকেই বিধি বদলে ভারতবর্ষের মুসলিম মহিলাদের এই সুযোগ দিতে হলো?

আসলে বিরোধীরা বোধহয় দেওয়াল লিখন পড়তে পারছেন না। উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনে তো বটেই, গুজরাট নির্বাচনেও মুসলিম মহিলারা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। যারা এই সত্য থেকে মুখ ফিরিয়েছিলেন, তারা এবার হজে যাওয়ার জন্য আগ্রহী মুসলিম মহিলাদের সংখ্যা বৃদ্ধিকে কিভাবে অস্বীকার করবেন? এবং সেই সংখ্যা বৃদ্ধি থেকে দেখা যাচ্ছে, বড় সংখ্যক মুসলিম মহিলাই এসেছেন ‘মোদী বিরোধী’দের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত কেরালা এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে।

ওয়াইসির কথা বাদ দেওয়া যাক, বামেরা বা অন্য বিরোধী দলগুলো কি বুঝতে পারছেন মুসলিম মহিলারা কি চান? হয়তো নয়। নয় বলেই কেরালার বাম মুখ্যমন্ত্রী পিন্নারাই বিজয়ন তো এখন আদর্শ কমিউনিষ্ট হিসাবে উত্তর কোরিয়ার ফ্যসিবাদী শাসক কিম জন উনকে তুলে ধরতে ব্যস্ত। আগে কেরালায় সিপিএমের ব্যানারে কিম জন উনের ছবি দেখা গিয়েছিল, আর এখন তো খোদ সিপিএমের মুখ্যমন্ত্রী উত্তর কোরিয়ার শাসকের গুণগানে ব্যস্ত।