মনে করিয়ে দিচ্ছে সুরাবর্দির রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ রাখার একটি প্রস্তাব রাজ্য বিধানসভায় গৃহীত হয়েছে। এবং এমন একটি প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছে সরকার পক্ষ, বিরোধী কংগ্রেস এবং বামপন্থীরা। রাজ্যের অপর বিরোধী পক্ষ বিজেপি অবশ্য প্রথমাবধি নাম পরিবর্তনরে বিরোধিতা করেছে, এখনও করছে। এখন প্রশ্ন, নাম পরিবর্তনের এই হিড়িক কেন? এই নাম পরিবর্তন কতটা যুক্তিযুক্ত? এই নাম পরিবর্তনে আদৌ পশ্চিমবঙ্গের কি কোনও মঙ্গল সাধিত হবে, নাকি সর্বনাসা এক পরিণতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার এটি প্রথম ধাপ? পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ করার মূল উদ্যোগটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পশ্চিমবঙ্গের ইংরেজি নাম ওয়েষ্ট বেঙ্গল। ওয়েষ্ট বেঙ্গল নামের আদ্যক্ষর ডব্লু অনুযায়ী দিল্লির যাবতীয় সরকারি বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি শেষে বলার সুযোগ পান। সরকারি মহলে শোনা যায়, এরকমই একটি বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখন শেষে বলতে ওঠেন, তখন সভাকক্ষে তাঁর বক্তব্য শোনার মতো বিশেষ কেউ ছিলেন না। তাতেই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী তারপর থেকেই রাজ্যের নাম বদলে ‘বাংলা’ করার উদ্যোগী হন। নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরকারি মহলের ব্যাখ্যা, এতে রাজ্যের প্রতিনিধি সরকারি বৈঠকে নিজের বক্তব্য শুরুতেই বলতে পারবেন। তার বক্তব্য সকলে শুনবেও। এবং রাজ্যের দাবি-দাওয়া আদায়ের পক্ষে তা সহায়ক হবে। মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকারের এই বক্তব্য অনেকের কাছেই প্রণিধানযোগ্য মনে হয়েছে এবং তারা স্বাভাবিক ভাবেই নাম পরিবর্তনের এই প্রস্তাবকে সমর্থন করছেন। ইতিহাস চেতনা বা আবেগ তাদের বিবেকের কাছে কোনও সাড়া ফেলতে পারেনি। পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনরে পক্ষে যাঁরা, তাঁদের মধ্যে অনেকে ইতিমধ্যে এমনও বলতে শুরু করেছেন, পূর্বই যখন নেই, তখন আর পশ্চিমবঙ্গ নাম রাখার যুক্তি কী? কিন্তু সত্যিই পশ্চিমবঙ্গ নামটি রাখার পিছনে কোনও যুক্তিই নেই? পশ্চিমবঙ্গ নামটি আঁকড়ে ধরে থাকা কি নিছকই একগুয়েমি আচরণ? সে প্রসঙ্গে পরে আসছি। আগে দেখা যাক, মুখ্যমন্ত্রী এবং সরকারি মহল থেকে নাম পরিবর্তনের যে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তা কতখানি গ্রহণযোগ্য। ইংরেজিতে ‘এ’ আদ্যক্ষর বিশিষ্ট নামের রাজ্য, যেমন অরুণাচল প্রবেশ, বরাবরই দিল্লির সরকারি বৈঠকে প্রথম দিকেই বলার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু বিগত সরকারগুলির সময়ে তাদের বক্তব্য সরকারি বৈঠকে যে খুব গুরুত্ব পেয়েছে বা প্রথমে বলার সুযোগে তারা যে উন্নতির সোপানে উন্নীত হয়েছে, এমন প্রমাণ কিন্তু অদ্যাবধী পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি বলেই বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীকে এখন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই রাজ্যগুলির দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলতে হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, পশ্চিমবঙ্গের রূপকার বলে কথিত ডা. বিধানচন্দ্র রায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সরকারি বৈঠকে বরাবর শেষদিকেই বক্তব্য রাখতে পেরেছেন। তাতে অবশ্য ন্যায্য দাবি আদায় করতে বা পশ্চিমবঙ্গকে উন্নয়নের আলো দেখাতে কোনোই সমস্যা হয়নি। এমনকী পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তো প্রায়শই দাবি করে থাকেন, সরকারি বৈঠকে তিনি যখনই কোনও বক্তব্য রেখেছেন বা কেন্দ্রের মন্ত্রীদের কাছে তিনি দরবার করেছেন, তখন তাঁর বক্তব্য যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারেই শোনা হয়েছে। এমনও তিনি দাবি করে থাকেন, অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে কেন্দ্র সরকার সহমতও প্রকাশ করেছে। সংবাদপত্রে এমন সংবাদও নজরে পড়ে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি মেনে কেন্দ্র পদক্ষেপ করেছে। এগুলি যদি সত্যি হয়, তাহলে হঠাৎ কেন পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের যুক্তি? যাঁরা রাজ্যের দোহাই পেড়ে নাম পরিবর্তনের পক্ষে জোর সওয়াল শুরু করেছেন, তাঁদের একটি বিষয় পরিষ্কার মনে রাখা ভালো। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় একটি রাজ্য সরকার যদি কেন্দ্রের দিকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে, তাহলে রাজ্যে উন্নয়নের কাজটি অনেক সহজ এবং দ্রুততার সঙ্গে হওয়া সম্ভব। কিন্তু বিগত বামফ্রন্ট সরকারের আমল থেকেই ‘কেন্দ্রীয় বঞ্চনা’র ধুয়ো তুলে লোক খেপাবার চটুল রাজনীতি চলছে। অধুনা সেই রাজনীতির মাত্রা আরও চড়া হয়েছে। রাজ্যের সরকারি আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় সরকারের ডাকা বৈঠকে উপস্থিত থাকার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রাজ্যের তরফে কেন্দ্রীয় সরকারি নির্দেশ মানতেও অনিচ্ছা প্রকাশ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প চালু করতেও বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে কার্যত অস্বীকার করে এই অসহযোগিতার রাজনীতি রাজ্যের পিছিয়ে পড়ার একটি অন্যতম কারণ। রাজ্যের নাম পরিবর্তনের মতো বিভ্রান্তকর প্রচেষ্টায় লিপ্ত না হয়ে বরং এই অসহযোগিতার মনোভাব দূর করলে রাজ্যটির মঙ্গল হয়। তবু যদি এসব যুক্তি না মেনেও কেউ নাম পরিবর্তনের দাবিতেই অটল থাকেন, তাহলেও দু-একটি কথা বলা যায়। ভারতের কোনও রাজ্যেরই দু’টি নাম নেই। একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেরই দু’টি নাম- বাংলায় পশ্চিমবঙ্গ, ইংরেজিতে ওয়েষ্ট বেঙ্গল। একটি রাজ্যের দু’টি নাম রাখার সত্যিই কোনও যৌক্তিকতা নেই। তেমনই যৌক্তিকতা নেই পশ্চিমবঙ্গের নামটি পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ রাখার। পশ্চিমবঙ্গ নামটিই যদি বহাল রাখা যায়, সেক্ষেত্রে ইংরেজিতে নামের আদ্যক্ষর হবে ‘পি’। তাহলে তো দিল্লির বৈঠকে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ‘সুচিন্তিত মতামত’ প্রথমদিকেই পেশ করতে পারবেন। এতে অসুবিধাটা কোথায়?

আসলে এসব কোনও কারণ নয়। পশ্চিমবঙ্গ নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ রাখার পিছনে একটি সুদীর্ঘ লালিত রাজনৈতিক বাসনা এবং একটি মহলের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র কাজ করছে। মনে রাখতে হবে, রাজ্য বিধানসভায় নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব আনার অনেক আগেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সুকৌশলে ‘বিশ্ব বাংলা’ শব্দ দু’টি চালু করে দিয়েছেন। কেন বিশ্ব বাংলা, কী-ই বা তার অর্থ এর কোনও ব্যাখ্যা আজ অবধি তিনি কোথাও দিয়েছেন বলে মনে পড়ে না। বরং রাজ্যের যত্রতত্র, সরকারি বিজ্ঞাপন, হোর্ডিং, সরকারি চিঠিপত্র- সর্বত্র বিশ্ববাংলার লোগো ব্যবহার করে এই বার্তাই দেওয়া হয়েছে যে, ইতিহাসের সাক্ষী এই পশ্চিমবঙ্গ নামটিকে নয়, বিশ্ববাংলাকেই মান্যতা দিতে চাইছে এই সরকার। এ যেন সেই ভারত আক্রমণকারী মোগল এবং সুলতানি শাসকদের ন্যায় আচরণ। দখলিকৃত স্থানের ইতিহাস-সংস্কৃতি ধ্বংস করে নিজের নামে নগরের পত্তন, সৌধ নির্মাণ। মনে রাখতে হবে, শেখ আবদুল্লাহ যেমনটি করেছিলেন কাশ্মীরে, ঠিক তেমনই ভারত রাষ্ট্রের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করেই কিন্তু রাজ্য সরকারি আমলাদের কেন্দ্রের সঙ্গে অসহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তাজনিত সমস্ত রকম বিধিনিষেধকে অবজ্ঞা করে এই রাজ্যের পুলিশ দমদম বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে ঢুকে খবর খবরদারি করেছে। দ্বিতীয় হুগলি সেতুর ওপর সেনাবাহিনীর রুটিন মহড়াকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ‘সেনা অভ্যুত্থান’ বলে চালানোর চেষ্টা করেছেন। ভারত রাষ্ট্রের বিদেশনীতিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বাংলাদেশের রাজাকারদের ফাঁসি রদের দাবিতে মৌলবাদী মুসলিম সংগঠনগুলিকে প্রকাশ্যে সভা করার অনুমতি দিয়েছে এই রাজ্য সরকার। বিদ্যালয় স্তরের পাঠ্যবইয়ে অনাবশ্যক ভাবে উর্দু শব্দ ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কলকাতা এবং সর্বত্র উর্দুতে লেখা সরকারি হোর্ডিংয়ের প্রাবল্য চোখে পড়ছে। এই রাজ্য থেকে সাংসদ হিসাবে রাজ্যসভা এবং লোকসভায় যাচ্ছেন এমন কিছু ব্যক্তি, যাদের বিরুদ্ধে মুসলিম জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকা, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করা ইত্যাদি অভিযোগ রয়েছে। এই রাজ্যের শাসক মন্ত্রীরা প্রকাশ্যেই তিন তালাকের মতো সংকীর্ণ কুপ্রথাকে সমর্থন জানাচ্ছেন। মালদা-মুর্শিদাবাদের মতো জেলার গ্রামগুলিতে কায়েম হয়েছে শরিয়ত বিচার। সীমান্ত অঞ্চলে প্রচার চলছে পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমের কিয়দংশ দখল করে বাংলাদেশের সঙ্গে একত্রিত করে বৃহৎ বাংলা গঠনের। এ যেন চল্লিশ দশকের সেই সুরাবর্দির মুসলিম লিগের রাজনীতি।

চল্লিশ দশকের শেষ লগ্নে, দেশভাগ পর্বে মহম্মদ আলি জিন্নার পরামর্শে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী, মুসলিম লিগ নেতা শহিদ সুরাবর্দি এমনই অখন্ড বাংলার চাল চেলেছিলেন। সুরাবর্দি যখন দেখেছিলেন, সম্পূর্ণ বাংলা পাকিস্তানের পক্ষে করায়ত্ত করা সম্ভব নয়, তখন তিনি অখন্ড বাংলাকে ভারত রাষ্ট্র থেকে আলাদা করে নতুন একটি রাষ্ট্ররূপে ঘোষণা করার বাসনা প্রকাশ করেন। সুরাবর্দির মূল উদ্দেশ্যটি ছিল ভারত থেকে পৃথক হয়ে অখন্ড বাংলা স্বাভাবিক ভাবেই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে এক ইসলামিক রাষ্ট্রই হবে। আর সেই রাষ্ট্রকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করতে বেশি অপেক্ষাও করতে হবে না। শরৎচন্দ্র বসু, কিরণশঙ্কর রায়ের মতো কংগ্রেসের হিন্দু নেতারা সুরাবর্দির এই চাল বুঝতে না পেরে পৃথক বাংলা রাষ্ট্রের প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুরাবর্দির চাল ব্যর্থই হয়েছিল। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সুরাবর্দির এই চাল ব্যর্থ করে জিন্নার আগ্রাসী থাবা থেকে বাঁচিয়ে এনেছিলেন পশ্চিমবঙ্গকে।

এতখানি কথা এই কারণেই বললাম, পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ করার যে প্রয়াস আজ শুরু হয়েছে- তাকে এর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখলে চলবে না। ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে সমসাময়িক ঘটনাবলি বিচার করলেই বোঝা যাবে, ভারতের মানচিত্র থেকে পশ্চিমবঙ্গ নামটি মুছে দিলে কোন মহলের সুবিধা, কোন শক্তি তাতে উল্লসিত হবে। পশ্চিমবঙ্গ ভারত মানচিত্রে শুধুমাত্র একটি নাম নয়। এই নামটি ভারত ইতিহাসের একটি কালখন্ডের পরিচয় বহন করছে। দেশভাগ পর্বে বাঙালি হিন্দুকে অসহনীয় লাঞ্ছনা, যন্ত্রণা এবং অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে- পশ্চিমবঙ্গ নামটির ভিতর লুকিয়ে রয়েছে সেই বেদনার ইতিহাস। পশ্চিমবঙ্গ নামটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নামক ব্যক্তির সেই রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইতিহাস, যে লড়াই দুই বাংলার হিন্দু জনগোষ্ঠীকে সেদিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছিল। গত সাত দশকে ভারত ইতিহাসের এই কালখন্ডটিকে বারবার মুছে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। যে কারণে কয়েক প্রজন্ম জানতেই পারেনি, কোন বেদনা, কত অশ্রু, কত রক্তপাতের ভিতর দিয়ে পথ চলতে হয়েছে তাদের পূর্বপুরুষকে। জানতেই পারেনি, কোন অবশ্যম্ভাবী ধ্বংসের হাত থেকে শ্যামাপ্রসাদ রক্ষা করেছিলেন হিন্দু বাঙালিকে। আজ যদি পশ্চিমবঙ্গ নামটিরই কোনও অস্তিত্ব না থাকে, ভারতের মানচিত্র থেকে যদি পাকাপাকি ভাবে মুছে দেওয়া হয় এই নামটি তাহলে আমাদের পূর্বজদের বেদনাকেই অস্বীকার করব আমরা। বিশ্বের  ইতিহাসে সমস্ত অত্যাচারিত জাতি তাদের পরের প্রজন্মের জন্য লিপিবদ্ধ করে গেছে তাদের বেদনা আর লাঞ্ছনার কাহিনি। এমনকী, পাঞ্জাবও পার্টিশন মিউজিয়াম করে ধরে রেখেছে দেশভাগের সেই দু:সহ স্মৃতি। কারণ একটাই, পরবর্তী প্রজন্ম যেন সত্যটা চিনতে শেখে যেন ভুলে না যায় তার পূর্বজদের হত্যাকারী কারা। কিন্তু দুর্ভাগ্য হিন্দু বাঙালির। তাদের পূর্বজদের কেউ কেউ সুরাবর্দির তালে পা মেলাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বেদনার ইতিহাসটি লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। আর তাই তাদের পরবর্তী প্রজন্ম অনায়াসেই বলতে পারে- পূর্বই যখন নেই, তখন আর পশ্চিম রেখে লাভ কী?

আজ যদি পশ্চিমবঙ্গ নামটি ভারতের মানচিত্র থেকে মুছে যায়, তাহলে শেষ পর্যন্ত জিতে যাবে চল্লিশের দশকে সুরাবর্দির রাজনীতি। আর হেরে যাবেন সেই হিন্দু বাঙালি যাঁরা অনেক রক্ত, অনেক অশ্রুপাতের ভিতর দিয়ে আঁকড়ে রেখেছিলেন এই পশ্চিমবাংলার মাটি। বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে যাঁরা বাঁচতে চেয়েছিলেন এই ভারতে। পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি হিন্দুকেই এখন বেছে নিতে হবে, আজ থেকে পনেরো-কুড়ি বছর পরে তাঁরা আরও একবার উদ্বাস্তু হওয়ার পথে পা বাড়াবেন- নাকি, পশ্চিমবাংলা নামটি বুকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে থাকবেন।