বোরখা খুলে হাতে গিটার, এটাই তো প্রতিবাদ

আমির খান যা করেন, তা একেবারে সর্বসমক্ষে করেন। ইংরেজি যে দৈনিকের আলোচনাচক্রে গিয়ে তিনি দেশে সহিষ্ণুতা-অসহিষ্ণুতার বিষয়টিকে খুঁচিয়ে দিয়েছিলেন, সেখানেও তাঁর সামনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী বসেছিলেন, অরুণ জেটলি ও রবিশঙ্কর প্রসাদ। তাঁদের সামনেই হিন্দি সিনেমার ‘থিঙ্কিং সুপারস্টার’ বলেছিলেন স্ত্রী কিরণ রাও উদ্বিগ্ন হয়ে তাঁর কাছে জানতে চেয়েছেন বিদেশে চলে যাওয়াটা নিরাপদ হবে কি না। সেই বিতর্কের আঁচ নিভেছে অনেকদিন। এবার কিন্তু আমির খান মুসলিম পুরুষতন্ত্রের সঙ্গে লড়াইটা নিলেন আরো সরাসরি। তাঁর প্রযোজিত এবং অভিনীত ছবি, ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ ধর্মীয় মৌলবাদ এবং পুরুষতন্ত্রকে ঠিক সেই জায়গায় ধাক্কা দেয়, যেটাকে তারা সযত্নে, সগোপনে এতদিন ধরে লালন করে এসেছে। ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ ইনসিয়া-র গায়িকা হয়ে ওঠার গল্প তো শুধু সেলুলয়েডের পর্দার কোনো আখ্যান নয়। আসলে মুসলিম পুরুষতন্ত্রের গালে একটি সপাটে থাপ্পড়, যে পুরুষতন্ত্র মুসলিম নারীকে ঘরের মধ্যে বেঁধে রাখতে চায়, বাইরের খোলা পৃথিবীতে নিঃশ্বাস নেওয়ার অনুমতি দেয় না।

দিওয়ালির দিন মুক্তি পেয়েছে আমির খানের এই নতুন ছবি, ‘সিক্রেট সুপারস্টার’। আর ঠিক সেই সময় দেওবন্দ থেকে ফতোয়া এসেছে মুসলিম পুরুষ অথবা নারীর জন্য সোশাল মিডিয়ায় কোনো ছবি পোস্ট করা ইসলামবিরুদ্ধ। এখানেই থেমে থাকেনি পুরুষতন্ত্রের প্রবল পরাক্রমশালী দার-উল-উলুম নামক ভারতবর্ষের এই মুসলিম সংগঠনটি।

দিওয়ালির সময় যেসব মুসলিম পুরুষ বা নারী আলোর উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ফতোয়া জারি করেছে দার-উল-উলুম। বিশেষ করে বারাণসীর যেসব মহিলারা দিওয়ালির দিন আরতি করেছিলেন, দার-উল-উলুম, দেওবন্দ তাঁদের ধর্মচ্যুত বলে ঘোষণা করে দিতে দ্বিধা করেনি। দার-উল-উলুম অবশ্য অক্টোবর মাসের গোড়া থেকেই ফতোয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে বিরাট কোহলির ধারাবাহিকতার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে। এ মাসের শুরুতেই তারা বলেছিল মুসলিম মহিলাদের চুল কাটা কিংবা ‘ভ্রু-প্লাক’ করা যাবে না, কারণ এগুলি সম্পূর্ণভাবে ইসলাম-বিরুদ্ধ। ঠিক সেইসময় এল আমির খানের ‘সিক্রেট সুপারস্টার’। যদি প্রতীকী অর্থেই ধরেন, তাহলে আমির খানের সিনেমার কিশোরী নায়িকা ঠিক সেই সেই কাজগুলো করে যা দার-উল-উলুম ফতোয়া দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে ইসলাম-বিরোধী বলে। ইনসিয়া গিটার বাজিয়ে গান করে, সেই গানের ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করে সে জনপ্রিয় হয় এবং তারপরে পুরুষতন্ত্রের যাবতীয় বাধা নিষেধের প্রতীক, তার বাবার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে, সে মাকে নিয়ে পড়াশোনা এবং কেরিয়ার তৈরি করতে বোরখার বাইরে পা রাখে। ইনসিয়ার এই যে বোরখার বাইরে পা রাখার সিদ্ধান্ত, সেটা মুসলিম পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে মুসলিম মহিলাদের কত বড় প্রতিবাদ তা হয়ত ঠিক বলে বোঝানো যাবে না। কিন্তু বিশ্বাস করতেই পারি বলিউডের সুপারস্টার জেনেশুনেই তাঁর সিক্রেট সুপারস্টার-এর মাধ্যমে মৌলবাদ এবং পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে এই চ্যালেঞ্জটাকে ছুঁড়ে দিয়েছেন।

মনে রাখবেন, আমির খানের শরীরে মওলানা আবুল কালাম আজাদের রক্ত বইছে। অতএব পরাধীন এবং স্বাধীন ভারতের সবচেয়ে আধুনিক মুসলিম নেতার উত্তরসূরী হিসেবে আমির ভালই জানেন, তিনি কোথায় এবং কাদের চ্যালেঞ্জ করছেন।

কেন ‘সিক্রেট সুপারস্টার’-এর কিশোরী নায়িকা ইনসিয়া বোরখা খুলে ফেলে খোলা মঞ্চে উঠে আসাটা এতটা গুরুত্বপূর্ণ? আসলে এই কাজটা করতে তো আমাদের, মানে মুসলিম মেয়েদের, চুয়ান্ন বছর লেগে গেল। সেই ১৯৬৩ সালের তুমুল জনপ্রিয় ছবি ‘মেরে মেহবুব’-এ নায়িকা হুসনা বানুকে আমরা বোরখা-আবৃত অবস্থায় যে পেলব রোমান্টিকতায় আবিষ্কার করেছিলাম, তার থেকে বেরিয়ে এসে বলিউডের মেইনস্ট্রিম ছবিতে কবে কোন মুসলিম নায়িকা চরিত্র এইভাবে বোরখা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে মঞ্চে গিটার নিয়ে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছেন? সেইজন্য আমির ভেবেচিন্তেই ইনসিয়ার গলায় ‘ম্যায় কৌন হুঁ’ গানটিকে রেখেছেন। আসলে তো ইনসিয়ার ‘ম্যায় কৌন হুঁ’ গানটির প্রতিটি কথা আজকের মুসলিম নারীর অস্তিত্বকেই জানান দেয়। এবং, মাথায় রাখবেন, ইনসিয়ার গান লেখার জন্য আমির বেছে নিয়েছেন আর এক মুসলিম মহিলাকে, কওসর মুনীর। আমির এবং কওসর বারবার বলেছেন, এই সিনেমার গান লেখার কিংবা সুর দেওয়ার সময় তাঁরা মাথায় রেখেছেন একটি ষোল বছরের মুসলিম কিশোরী ঠিক কোন ভাষায় আত্মপ্রকাশ ঘটাতে চায়।

দার-উল-উলুমের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমির বা ছবির নায়িকা জ্যাইরা ওয়াসিম যে সপ্তাহে এই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন, সেই সপ্তাহেই পৃথিবীর আর এক প্রান্তে আরেকটি ঘটনা ঘটছে। সম্মিলিত জোটের আক্রমণের সামনে আই এস-এর হেডকোয়ার্টার বলে পরিচিত রাক্কা-র পতন ঘটেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত রাক্কা-য় সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সের যোদ্ধারা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বিদেশি সাংবাদিকদের দেখাচ্ছেন ঠিক কীভাবে পশ্চিম এশিয়ার এই শহর থেকে শুধু ধ্বংসলীলা নয়, আইএস তাদের যাবতীয় নিষ্ঠুরতার প্রচারও নিপুণ দক্ষতায় দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিত। ফরাসী সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাক্কা-নিবাসী পঁচিশ বছর বয়সী যুবক সোরেশ-আল-রাক্কাভি দেখিয়েছেন কীভাবে আইএস-এর বন্দুকধারীরা মুসলিম যুবকদের ধরে ধরে তাদের স্মার্টফোন থেকে গান মুছে দিত, আর আইএস-এর বাণী মোবাইলে ডাউনলোড করতে বাধ্য করত। রাক্কায় আইএস আজকে অতীত। কিন্তু আইএস-এর বিশ্বাসগুলো আজও এই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সেই মৌলবাদেরই একটা অংশ হিসেবে দার-উল-উলুম মুসলিম পুরুষ এবং নারীকে সোশাল মিডিয়ায় ছবি আপলোড করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

সেই বিশ্বাসেরই অঙ্গ হিসেবে, ‘সিক্রেট সুপারস্টার’-এর কিশোরী নায়িকা ইনসিয়াকে তার বাবার নির্দেশে বাইরের দুনিয়ার সাথে তার যোগাযোগের মাধ্যম, মায়ের গয়না বেচে লুকিয়ে কেনা ল্যাপটপটিকে আছড়ে ভেঙে ফেলতে হয়। কিংবা সৌদি আরবে গিয়ে ষোল বছর বয়সেই নিজের লেখাপড়া জলাঞ্জলি দিয়ে বাবার ঠিক করা পাত্রকে ‘নিকাহ’ করার ব্যাপারে প্রাথমিক সম্মতি দিতে হয়। আমির খানের এই সিনেমায় সৌদি আরব এবং তার রাজধানী রিয়াধ ফিরে এসেছে বারবার। এবং বোধহয় সচেতনভাবেই।

মওলানা আবুল কালাম আজাদ তাঁর জীবদ্দশায় সৌদি-প্রভাবিত ওয়াহাবি মুসলিম আন্দোলনের ঘোরতর বিরোধিতা করেছেন। এবং, ভারতীয় মুসলিমদের বারবার ‘ভারতীয়’ হয়ে ওঠার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁরই উত্তরসূরী হিসেবে আমির খানও রিয়াধ-এর অবরুদ্ধ মুসলিম নারীজীবনের প্রতিস্পর্ধী হিসেবেই ছবির কিশোরী নায়িকা ইনসিয়া এবং তার মায়ের মুম্বইযাত্রার আখ্যান রচনা করেছেন।

রিয়াধের প্লেনে উঠতে না চেয়ে কিশোরী ইনসিয়া এবং তার মায়ের গিটার নিয়ে বেরিয়ে যাওয়াটা আসলে মুসলিম মহিলাদের কত বড় প্রতিবাদ, সেটা হয়ত অনেকে বুঝতে পারবেন না। আমি জানি। এবং জোরের সঙ্গে বলতেও পারি সৌদি আরবের এই অবরুদ্ধ নারীজীবনকে প্রত্যাখ্যান করাটা মুসলিম মহিলাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম পদক্ষেপ। কেন বললাম? কারণ আমার এবং আমার কন্যারও প্রথম পাসপোর্ট তৈরি হয়েছিল রিয়াধ যাত্রার উদ্দেশ্যে। সেই যাত্রা আর হয়নি, সে আখ্যান অন্য। কিন্তু রিয়াধ-যাত্রাকে প্রত্যাখ্যান করে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসার সময় যখন নিরাপত্তারক্ষী তাঁদের আটকে সতর্ক করে জানিয়ে দেয়, ‘একবার ভিতর থেকে বাইরে এলে আর কিন্তু ভিতরে ফেরা যাবে না, ম্যাডাম’, তখন ইনসিয়ার মা হেসে বলেন, ‘তার চাইতে ভালো আর কি হতে পারে?’। এটাকে শুধু একটা বলিউডি সিনেমার চটকদার সংলাপ বলে ভাববেন না; এদেশের কয়েক কোটি মুসলিম মহিলার মনের কথা বলেই মানবেন।

বলিউডের একটা সিনেমা, তাও মেইনস্ট্রিম মশালা সিনেমা, তাকে নিয়ে এত উদ্বেল হওয়ার কী আছে? আছে। কি আছে সেটা বুঝতে গেলে এদেশের মুসলিম নারীর মন বুঝতে হবে। যে মন বুঝতে গেলে, মনে রাখতে হবে এই বছরেরই গোড়ার দিকে উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে খাস দেওবন্দেই বিজেপি জিতেছিল। সত্তর বছরের যাবতীয় ট্র্যাডিশনকে ভেঙে দেওবন্দে মুসলিম মহিলারা ঠেসে পদ্মফুলে ছাপ দেওয়ার জন্যই সেই জয় সম্ভব হয়েছিল।

আমির খান এ দেশের মুসলিম নারীর এই মন বোঝেন বলেই হয়ত সাহস করে ‘দঙ্গল’-এর পর ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ বানিয়ে ফেলেছেন। দঙ্গল যদি গোবলয়ের খাপ পঞ্চায়েতকে চ্যালেঞ্জ করে, তাহলে ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ মুসলিম পুরুষতন্ত্রের জন্য একেবারে ওভারবাউন্ডারি। এবং যে সমস্ত তাত্ত্বিক এই সিনেমায় দেখানো গার্হস্থ্য হিংসাকে বাড়াবাড়ি বলে মনে করেন, তাঁরা আসলে এখনও ভারতবর্ষের পুরুষতন্ত্রকেই চেনেন না। মুসলিম পুরুষতন্ত্র তো অনেক দূরের কথা!

শুধু ছোট করে মনে করিয়ে দিতে পারি এই কলকাতা শহরে মাত্র কিছুদিন আগে গার্হস্থ্য হিংসার বলি হয়ে আগুনে পুড়ে মরতে হয়েছে প্রেসিডেন্সির মেধাবী ছাত্রী তানিয়া আলিকে। সেক্ষেত্রে অভিযোগের তির কোনো সৌদি আরব যেতে পা বাড়িয়ে থাকা মুসলিম পুরুষের দিকে নয়, বরং এই শহরেরই এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, তাঁর স্বামীর দিকে।

আমিরের মতই এই সিনেমার জন্য প্রশংসা পাবেন ষোলবছরের কাশ্মীরি কিশোরী, জাইরা ওয়াসিম। জাইরা যতটা সহজে সাক্ষাৎকারে বলেন যে তিনি কাশ্মীরি ভাষায় দুর্বল, পরীক্ষায় টুকে পাশ করতেন, ততটাই অবলীলায় ফ্রন্টফুটে এসে মুসলিম পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন। মাথায় রাখবেন, এই কাশ্মীরি কিশোরীকেই সোশাল মিডিয়ায় প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল, যখন তিনি কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী, মেহবুবা মুফতির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। বিতর্ক অবশ্য জাইরা ওয়াসিমের ষোল বছরের জীবনের চিরসঙ্গী। বাস্তব জীবনে তাঁর মা, জারা ওয়াসিম কেন অতীতে ভারত-পাক ম্যাচের সময় পাকিস্তানকে সমর্থন করে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়েছিলেন, সেই প্রসঙ্গ যেমন এসেছে; তেমনই জায়রা নিজেও বিজেপি নেতা বিজয় গোয়েলের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছেন হিজাবকে তিনি মুসলিম মহিলাদের খাঁচায় পুরে রাখার সঙ্গে তুলনীয় মনে করেন কি করেন না তাই নিয়ে।

কিন্তু দার-উল-উলুমের ফতোয়ার সামনে দাঁড়িয়ে আমির যতটা ক্রিস গেইলের ভঙ্গিতে ব্যাট হাঁকিয়েছেন, এই কাশ্মীরি কিশোরীও তার যোগ্য সঙ্গত করেছেন।

আমির এবং জাইরা ওয়াসিম মুসলিম পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে এই চ্যালেঞ্জটাকে নিয়েছেন হৃদয় থেকেই। কেউ বলতে পারেন, এ সবই আসলে সাজানো চিত্রনাট্য; বলিউডের বাজার ধরার কৌশল, আমির খানের নতুন ‘মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি’! কিন্তু যদি আমিরের সহিষ্ণুতা নিয়ে বিতর্ককে তাঁর সচেতন মন্তব্য বলে ধরি, তাহলে তাঁর ‘সিক্রেট সুপারস্টার’-কেই বা শুধুমাত্র সেলুলয়েডের আখ্যান হিসেবে মানব কেন? আমির কি জানেন না এই সিনেমার জন্য তাঁর কাম্মীরি নায়িকার কতটা হেনস্থার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা আছে? ভুল বললাম। আসলে তো হেনস্থা ইতিমধ্যেই হতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই জাইরা ওয়াসিম আবার ‘ট্রোল্‌ড্‌’। তাঁর ফেসবুক পেজে গিয়ে মুসলিম পুরুষরা ঠিক কী কী লিখে আসছেন, তা একবার দেখে নিতেই পারেন। কিন্তু তবু জাইরা এবং আমির এই পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কারণ, রাক্কা যখন আইএসের হাতছাড়া, তখনও মৌলবাদ আসলে মরে যায়নি। গোটা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে তা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন নতুন নামে, পুরানো চেহারায়। দার-উল-উলুমের ফতোয়া আসলে তারই একটা উদাহরণ মাত্র। মওলানা আজাদের উত্তরপুরুষ আমির খানের তাকে চ্যালেঞ্জ না করে উপায় ছিল না।