বাঙালীর লজ্জা, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন অনুষ্ঠানে বামপন্থীদের হামলা

বিষয়ঃ অতি সম্প্রতি প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল জাতীয়তাবাদী ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবার স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন পালনের আয়োজন করে। স্বামীজীর জন্মদিন ১২ই জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি থাকার কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারন ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে তারা ১১ই জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন পালন উপলক্ষে তারা গরীব শ্রমিক & শিশুদের মাঝে শীতবস্ত্র & খাদ্য বিতরনের পরিকল্পনা নেয়। ঐদিন সকালে স্বামীজীর ছবিতে পুষ্প এবং মাল্যদানের পরে যে ব্যানারে অনুষ্ঠান শুরু হয় সেখানে স্বামীজীর ছবিসহ লেখা ছিলো প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারন ছাত্রছাত্রীদের দ্বারা আয়োজিত স্বামীজীর জন্মদিন অনুষ্ঠানে গরীবদের মাঝে শীতবস্ত্র ও খাদ্য বিতরণ। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বাইরের কলেজ থেকে কিছু আমন্ত্রিত প্রফেসর ছিলেন।অনুষ্ঠান ঠিকঠাকই চলছিলো এবং বেলা বাড়তেই ভিড় বাড়ছিলো। বিপত্তি ঘটে আমন্ত্রিত অতিথি প্রফেসরদের মাঝে দেবাশিষ চৌধুরীর বক্তৃতা নিয়ে!তিনি JNU ক্যাম্পাসে বামপন্থীদের দেশবিরোধী স্লোগানের সমালোচনা করেন এবং বিবেকানন্দের সাম্যবাদ ও কমিউনিজমের সাথে চীনের মাও সেতুং এর সাম্যবাদ ও কমিউনিজমের তুলনা করে ভারতবর্ষের জন্যে মাও অপেক্ষা কেন বিবেকানন্দের আদর্শ বেশি প্রয়োজন সেটা বোঝানোর চেষ্টা করেন। ওনার বক্তৃতা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই বামপন্থী SFI সমর্থকরা এসে ওনাকে ঘিরে ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং এমনকি মারার হুমকি দিতে থাকে। অবস্থার অবনতি দেখে তাড়াতাড়ি ওনাকে ক্যাম্পাস থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্ব মানে গরীবদের মাঝে শীতবস্ত্র এবং খাদ্য বিতরণ যেটা অনুষ্ঠানের মূলপর্ব সেটা আর সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন  হলোনা। একদল বামপন্থিরা এসে স্বামীজীর ছবিসহ ব্যানার ছিড়ে নিয়ে চলে যায়! এই দৃশ্য দেখে আমন্ত্রিত গরীব শ্রমিক এবং শিশুদের অনেকেই ভয়ে চলে যায় এবং বাকী যারা রয়ে যায় তাদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা গেলেও খাবারের প্যাকেটগুলো ততক্ষনে বেশিরভাগই উধাও হয়ে হয়ে যায়! এটাই হলো নবযৌবনের প্রতীক, দেশপ্রেমিক ও বিশ্বজয়ী স্বামীজীর জন্মদিন প্রথমবার প্রেসিডেন্সিতে উদযাপনের ‘মিষ্টি’ অভিজ্ঞতা যিনি আমেরিকার শিকাগো বিশ্বসম্মেলনে  ভারতকে বিশ্বের দরবারে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করেছিলেন!
এই স্বামীজী সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, “ভারতবর্ষ পৃথিবীর একটা ক্ষুদ্র সংস্করণ।আর এই বিশাল ভারতবর্ষকে জানতে হলে আগে বিবেকানন্দকে জানুন।তার মধ্যে নেতিবাচক কিছুই নেই। যা আছে সবই ইতিবাচক।”
প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তনী হিসেবে স্বামীজীর জন্মদিন পালন অনুষ্ঠানে বামপন্থীদের হামলা প্রসঙ্গে আমার দু’চার কথা বলার আছেঃ
যারা বাক স্বাধীনতা, সাম্যবাদ এবং কমিউনিজমের পক্ষে আন্দোলন ও ‘প্রচার’ করে বেড়ায় তারা কেন ঐ প্রফেসর নিজস্ব মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হামলা করে পুরো অনুষ্ঠানটাই পন্ডু করে দিলো? যারা সারাক্ষণ গরীবদের জন্য ‘ভাত চাই’ বলে ‘বিজ্ঞাপন’ বেড়ান তারা কেন গরীবদের মাঝে শীতবস্ত্র ও অন্ন বিতরণ অনুষ্ঠানটা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন  হতে দিলোনা?
২০১৪ সালে যখন প্রেসিডেন্সি  বিশ্ববিদ্যালয়ে B.Sc Chemistry(Hons) এ ভর্তি হই তখন একটা জিনিস ভালোভাবে খেয়াল করি যে ভর্তির ঠিক পরপরই ক্যাম্পাসে নতুন ছাত্রছাত্রীদেরকে কিভাবে পরিকল্পিতভাবে ‘ব্রেইনওয়াশ’ করানো হয়।শুধুটা করে ভর্তির সময় বিভিন্ন তথ্য,তারপর ক্লাসনোটস ইত্যাদি দিয়ে সাহায্য করা।তারপর বন্ধুত্ব বাড়িয়ে চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে গাঁজা,মদ ইত্যাদি যতদূর নিয়ে যাওয়া যায়।তারপর টার্গেট করা হয় ক্যাম্পাসে নবাগত কিছু সুন্দরী মেয়েদেরকে,যাদেরকে ওদের সাথে যুক্ত করতে পারলে ওদের অনেক ‘লাভ’।এভাবেই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা মাফিক বাড়ানো হয় ‘বন্ধু’ সার্কেল।আর এগুলো করতে যারা সবচেয়ে বেশি দক্ষ তারা হলো SFI. এতসব করার পরও যদি দেখে ক্যাম্পাসে কেউ ওদের বিরোধী মানে দক্ষিনপন্থী মত পোষণ করে তখন শুরু হয় চরম অসহযোগিতা এবং ‘মধুচক্রে’ ফাঁসানো।মধুচক্র মানে  দক্ষিনপন্থী ছেলেকে মেয়ে কেসে এবং মেয়েকে ছেলে কেস দিয়ে পরিকল্পনা মাফিক কিছু কেচ্ছা কেলেঙ্কারিতে ফাঁসানো বা ‘ব্লাকমেইল’ করে ক্যাম্পাসে পুরো চুপ করিয়ে দেয়া! সবকিছুতেই যখন ব্যর্থ হয় তখন শুরু হয় মারার হুমকি! ক্যাম্পাসে আমি যখন ভর্তি হই তখন প্রথমে আমার মতাদর্শী তেমন কাউকে খুঁজে পাইনি কারন কারন অনেকেই ভয়ে মতপ্রকাশ করতে পারত না বা অনেকের ভয় থাকতো প্রকাশ্যে ভিন্নমত পোষন করলে আর প্রেসিডেন্সির ‘Intellectual’ তকমা পাওয়া যাবেনা! ভর্তির মাসখানেকের মধ্যে ‘হিন্দু হোস্টেল’ পেয়ে যাই। ক্যাম্পাস এবং হোস্টেলে তখন আমিই প্রথম পাবলিকলি বলে বেড়াতাম যে Presidency University Campus এ আমার হাত ধরেই প্রথম উত্থান হবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রশক্তি ABVP এর। অনেকেই আমার কথা শুনে হাসাহাসি শুরু করেছিলো সেদিন কিন্তু আমার কথাগুলো যে অমূলক ছিলো নয় সেটা তারা বুঝতে পেরেছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচন PUSUC এ (Presidency University Student Union Council). সবাইকে অবাক করে দিয়ে কেমিষ্ট্রি ডিপার্টমেন্ট Class Representative(CR) পদে নির্বাচনে লড়ি & পরপর টানা তিনবার CR নির্বাচিত হই(সার্টিফিকেট আছে)। দুঃখ একটাই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সবাই আমার আদর্শ জানলেও ABVP নাম নিয়ে লড়তে পারিনি কারণ ক্যাম্পাসে তখনও ABVP UNIT ছিলোনা কিন্তু লক্ষ্য থেকে আমি বিচলিত হইনি।ভিতরে ভিতরে খবর নিয়ে আমাদের মতাদর্শীদের খুঁজে বের করতে সমর্থ হয়েছিলাম যাদের অনেকেই আজকের প্রেসিডেন্সিতে জাতীয়তাবাদী কাজকর্মের নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্রেসিডেন্সিতে আমার জীবন খুব একটা মসৃণ ছিলোনা। দক্ষিনপন্থী হওয়ার কারনে পেয়েছি চরম অসহযোগিতা, হুমকি সহ এমনকি ‘চাড্ডি’ উপাধি! তখনই আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম প্রেসিডেন্সিতে স্বামী বিবেকানন্দ,নেতাজী সুভাষচন্দ্র,বঙ্কিমচন্দ্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখের জন্মদিন পালনের সাথে সাথে  ‘বন্দেমাতরম’, ‘ভারত মাতাকি জয়’ ধ্বনি আওয়াজ তোলার। স্বপ্ন দেখেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রথমবার সরস্বতী পূজা উদযাপনের!সরস্বতী ‘প্রথমবার’ বললাম কারণ আমি কোনদিন ক্যাম্পাসে সরস্বতী পূজা দেখিনি,আর আগে কোনদিন হয়েছে বলে কোন খবর পাইনি। আর হবেই বা কি করে বামপন্থী ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রী আরাধ্য দেবী বহুদিন থেকে ‘সাম্প্রদায়িক’ তকমা নিয়ে বসে আছে যে! তখন ক্যাম্পাসে ‘হার্মাদ’দের হামলা সামলোর শক্তি সামর্থ্য আামাদের ছিলোনা তাই সম্ভব হয়নি। কিন্তু যাদেরকে খুজে পেয়েছিলাম তাদের সাথে আমার স্বপ্ন এবং পরিকল্পনা গুলো শেয়ার করে এসেছিলাম। বিশ্বাস ওরা সেগুলো বাস্তবায়িত করতে পারবে, কারণ ক্যাম্পাসে তখন আমাদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছিলো।
আজ হয়তো দূরে আছি, কিন্তু প্রেসিডেন্সি সবসময়ই ভালবাসার জায়গা এবং প্রেসিডেন্সির সব খবরাখবরে আপডেট থাকি। প্রেসিডেন্সিতে স্বামীজীর জন্মদিন পালনের খবরপেয়ে আগে থেকেই আয়োজকদের বামপন্থী হামলার সম্ভাবনা সতর্ক করেছিলাম কারন আমি দেখেছি কিছু আগে JNU ক্যাম্পাসে বিবেকানন্দের মূর্তি স্থাপনে বাঁধা দিয়ে ওদের হিংস্র চেহারা! আশঙ্কা আমার সত্যি হলো, বিবেকানন্দের জন্মদিন অনুষ্ঠানেই প্রেসিডেন্সিতে হামলা করলো বামপন্থী তথা দেশবিরোধী ছাত্র সংগঠন SFI. JNUSU ELECTION 2018 তে বিস্তারকের ভূমিকায় মাস খানেক কাজ করার সুবাদে খুব সামনে থেকে ওদেরকে দেখার সুযোগ হয়েছিলো, যারা JNU তে স্লোগান দেয় “কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদী”, “ভারত তেরে টুকরো হোঙ্গে ইনশাল্লাহ ইনশাল্লাহ” ইত্যাদি ইত্যাদি।
তবে এতকিছু বাঁধা বিপত্তির মাঝেও আমার যে সব ভাই বোনেরা কঠোর পরিশ্রম করে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করলো তাদেরকে অনেক অনেক অভিনন্দন। প্রেসিডেন্সির প্রাক্তনী হিসেবে, আমার মতে এই অনুষ্ঠানটি অনেক। এই অনুষ্ঠানটির মধ্যে দিয়ে ‘অচলায়তনের’ উত্তর দিকের জানালা খুলে গিয়েছে! আমার বিশ্বাস আগামী দিনে ওরাই প্রেসিডেন্সিতে সরস্বতী পূজা করবেই! বাঁধা আসলে মোকাবিলা করবেই! কেউ ‘হিন্দু হোস্টেল’ নাম পরিবর্তন করতে চাইলে শক্ত হাতে তার জবাব দেবে! কারন,হিন্দু হোস্টেলের একজন প্রাক্তন আবাসিক হিসেবে আমি জানি হিন্দু হস্টেল কেবল একটি নাম নয়, তার নামের সাথে ঐতিহ্যবাহী ২০০ বছরের পুরোনো প্রেসিডেন্সির অনেক আবেগ, ভালবাসা ও স্বপ্ন! চোখের সামনে প্রেসিডেন্সিকে বদলাতে দেখেছি।আরো বদলাবে, গড়ে উঠবে জাতীয়তাবাদী শক্তির ‘নতুন  প্রেসিডেন্সি’, আমার স্বপ্নের প্রেসিডেন্সি হয়ে উঠবে বাস্তবের প্রেসিডেন্সি! এ আমার বিশ্বাস!
বন্দেমাতরম!
ভারত মাতাকি জয়!