আধুনিক বাংলার রূপকার ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায় স্মরণে

আধুনিক বাংলার রূপকার তথা পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায় ছাত্র জীবন থেকেই ছিলেন বহুমুখী প্রতিভাশালী |1881 সালের পয়লা জুলাই পাটনা শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং পাটনাতেই শৈশব জীবন কাটান | পাটনা কলেজিয়েট স্কুল থেকে 1898 সালে তার স্কুল জীবন শেষ করে কলকাতায় চলে আসেন | তারপর প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে শিবপুরইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং ক্যালকাটা মেডিকেল কলেজের উভয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ক্যালকাটা মেডিকেল কলেজেচিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন |পরবর্তীতে তিনি বিদেশ থেকে চিকিৎসা শাস্ত্রে নানা ডিগ্রি অর্জন করেন | দেশে ফিরে তিনি বিনা পারিশ্রমীকে দরিদ্রদের চিকিৎসা সেবাপ্রদান করেন এবং সামাজিক চিকিৎসক হিসাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেন |

একসময়ে মহাত্মা গান্ধী ও ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায় এর চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করেছিলেন |1925 সালে ব্যারাকপুর থেকে নির্দলীয়ভাবে নির্বাচনে জয়লাভ করে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করেন |পরবর্তীতে তিনি গান্ধীজির অনুরোধে 1928 সালে জাতীয় কংগ্রেসেযোগদান করেন এবং গান্ধীজির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেকে স্বাধীনতা একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসাবে গড়ে তোলেন ফলশ্রুতিতেইংরেজদের দ্বারা আলিপুর জেলে কারারুদ্ধ হয়েছিলেন |

1931 সালে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর কলকাতা কর্পোরেশনের ষষ্ঠ মেয়র হিসাবে নির্বাচিত হন | মেয়র থাকাকালীন তিনি বিনামূল্যেজল, শিক্ষা, চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করেন ও উন্নত রাস্তাঘাট নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন | স্বাধীনতা অর্জনের পর 1948 সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ বাক্য পাঠ করেন | তৎকালীন সময়ে দেশ ভাগের বলিতে অত্যাচারিত হয়েপশ্চিমবঙ্গে আসা হিন্দু শরণার্থীদের কল্যাণে এগিয়ে আসেন | 

ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায় ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের কৃষি ও শিল্পোন্নতির প্রথম কারিগর তিনি নিজে হাতে দুর্গাপুর, বিধাননগর,কল্যাণী, অশোকনগর ও হাবড়ার মতো বড় বড় পাঁচটি শহর স্থাপন করেন এবং শিলিগুড়ি শহরের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন | যাদবপুরটিবি হসপিটাল,চিত্তরঞ্জন সেবা সদন, চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হসপিটাল, কমলা নেহেরু মেমোরিয়াল হসপিটালের প্রতিষ্ঠা করে পশ্চিমবঙ্গেরচিকিৎসা ব্যবস্থ্যা দেশের শীর্ষে নিয়ে যান |

তাঁকে সারণীয় করে রাখার জন্য তাঁর জন্ম তিথিতে সারা দেশ জুড়ে জাতীয় চিকিৎসক দিবস পালিত হয় |1961 সালে তাঁকে ভারতবর্ষেরসর্বোচ্চ সন্মান ‘ভারতরত্ন’ খেতাবে ভূষিত হন | 1962 সালের | লা জুলাই এই প্রতিভাবান ব্যাক্তি ইহলোক ছেড়ে পরলোক গমন করেন | আধুনিক বাংলার রূপকার হিসাবে ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায় আমাদের মনে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন |