বিশ্বাস ঘাতক কমিউনিস্ট চীন সরকার

সময় টা এখন হিন্দী চিনি ভাই ভাই নয় হিন্দী চিনি বাই বাই।  সর্বত্র সারা ভারতবর্ষে এই ধ্বনি উচ্চারিত হচ্ছে। গত ১৫ই জুন  রাতে লাদাখ সীমান্তে পয়েন্ট পোস্ট ১৪ র কাছে ভারতীয় এবং চীনের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ভারতীয় সেনারা শত্রু পক্ষের সঙ্গে লড়াই করতে করতে ভারতীয় ২০ জন সৈনিক হুতাত্মা প্রাপ্তি  হয়েছেন।  সংবাদ মাধ্যম ANI এবং মার্কিন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছ চিনের হতাহত সৈন্যদের সংখ্যা প্রায় ৪৩। উল্লেখ্য ১৯৯৩,  ১৯৯৬ এবং  ২০০৫ সালের কংগ্রেস সরকার চীনের সঙ্গে বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষর করে যেখানে বলা হয় ভারত চীন সীমান্তে LAC র ২ কিলোমিটার এলাকায়  উভয়দেশের সামরিক বাহিনী কোন অস্ত্র ব্যবহার করবে না।  কিন্তু চীনের কমিউনিস্ট সরকার কোন স্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি পালন করে না। কমিউনিস্ট বামপন্থী চীন মুখে যা বলে কাজে তা করে না বিশ্বাস ঘাতকতা কমিউনিজেমের রক্তে রয়েছে । যদিও ১৫ই জুনের সংঘর্ষে হতাহত চীনের সৈন্য সংখ্যার পরিসংখ্যান দেয় নি চীন সরকার । তবে চীনের গ্লোবাল টাইমে জানিয়েছে সংঘর্ষে চীনের দিকেও প্রাণ হানি হয়েছে। পূর্বেও চীনের অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে ভারত লড়াই করেছে যেমন ১৯৬২ সালের যুদ্ধ , ১৯৬৭ নাথুলা পাস,  ১৯৮৭ সালে সুন্দরম চু সহ লাদাখ উত্তরা খন্ড সিকিম অরুণাচলের ঘটনা চীনের আগ্রাসী মনোভাবের পরিচয়। ভারতীয় সেনা এই অধিগ্রহণ এবং আগ্রাসী কমিউনিস্ট মনোভাবের যোগ্য জবাব সব সময় দিয়েছে ।  লাদাখ সীমান্তে ১৫ই জুন ভারতীয় বীর সৈনিকেরা মারতে মারতে বীরগতি প্রাপ্ত হয়েছেন। ভারতীয স্থল বাহিনী সেনা প্রধান বলেছেন ‘আসলে যেহেতু এল এ সি স্পষ্ট ভাবে চিহ্নিত নয়,  তাই দু পক্ষেই এই সীমান্তকে নিজেদের মতো ব্যাখা করে’। এই বিষয়ে চীন সবসময়ই আগ্রাসী।

জম্মু-কাশ্মীরে ধারা ৩৭০  বিলোপের পর থেকেই জম্মু-কাশ্মীর এবং লে লাদাখ দুটি স্বতন্ত্র কেন্দ্র শাসিত প্রদেশ।  এই প্রদেশের দুটো অংশের মধ্যেই গত ৭০ বছর ধরে ভারতের কেন্দ্রে কংগ্রেসের সেকুলার কংগ্রেস সরকার থাকায় পাকঅধিকৃত কাশ্মীর অর্থাৎ POK এবং চীন অধিকৃত লাদাখ আকসাই চীনের জন্ম যে দিয়েছে তাতে সন্দেহ নেই । এই সবটাই পন্ডিত জওহরলাল নেহরু এবং পরবর্তী বংশধরদের রাজত্বের ফলে সম্ভব হয়েছে।  বর্তমানে পূর্ব লাদাখ সীমান্তে রাস্তা নির্মাণ কার্য সক্রিয় হওয়ায় কমিউনিস্ট চীন সরকারের আগ্রাসন আগে থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দেড় মাসে হতাহতের কথাই স্পষ্ট হল চীন বার্তালাপের ভাষা আর বুঝবে না।  ইতি মধ্যেই ২০১৭ সালে ডোকালামে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে চীনের অধিগ্রহণ নীতির বিরুদ্ধে কূটনৈতিক স্তরে জয়ী হয়েছে ভারত। এবং চীনকে ডোকালাম থেকে পূর্বের অবস্থানে যেতে বাধ্য করেছে ভারতীয় সৈন্য। কিন্তু পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকা, প্যাংগং লেকের LAC সমস্যা এখন অনেক জটিল হয়ে উঠেছে ।  চীন বরাবর কখনই নিজে LAC র সমস্যার সমাধান করে না। এমনকি ভারত প্রস্তাব দিলে টালবাহানা করে। কখনই সুস্থ সমস্যার সমাধান করে না।  প্রতিনিয়ত সুযোগ বুঝে ভারতীয় নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করে সীমানায় প্রবেশ করে এবং নিজের LAC দাবি করে।  ২০১৪ সালে চুমার এলাকায়, ২০১৭ তে ডোকালামে এবং ২০২০ তে গালওয়ান উপত্যকায় চীনের অনুপ্রবেশ করার দৃষ্টান্ত উল্লেখ্য । এপ্রিলে শেষ থেকেই গালওয়ানে চীন ৮০ টি তবু পাতলে ৫০০ মিটার দূরে ভারতও ৬০ টি তবু খাটিয়ে ফেলে। 

গত ৫ই মে লাদাখের প্যাংগং লেকে LAC তে চীনের ২০০ সৈন্য মোতায়েন করা হয়। লেকের পশ্চিমে উচু উচু পাহাড় আছে সেগুলিকে ফিংগার হিসেবে চিহ্নিত করে LAC নির্ধারণ হয়। প্যাংগং লেকের ফিংগার ৪, ফিংগার ৫ তে চীনের আচমকা টহলদারি বৃদ্ধি হয়। পাল্টা ভারতেরও অধিক মাত্রায় সেনা নিয়োগ করা হয় সেখানে।  স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায় প্যাংগং ঝিলে চিনের সেনা অস্থায়ী তবু নির্মাণ করে ক্যাম্প গড়ে তুলছে।  ঝিলের ফিংগার ১ থেকে ফিংগার ৮ পর্যন্ত ভারতের অধীনে ঐ ভূখণ্ড কিন্তু চীন LAC তে ফিংগার ৪তে তবু ক্যাম্প স্থাপন করে বলে ঝিলের ফিংগার ৮ থেকে ফিংগার ২ পর্যন্ত চীনের ভূখণ্ড । ভারত চীনের এই আচরণে আপত্তি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যেই বচসা হয় এবং চলে ধস্তাধস্তি। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ‘মিরর পজিশন’ অবস্থান হয়। ভারতীয় সৈন্য এক চুল পরিমাণ অনুপ্রবেশকে আটকাতে কঠোর ভাবে বদ্ধ পরিকর। 

ভৌগোলিক অবস্থান ভূ-রাজনীতির আধিপত্য বিস্তার এবং আগ্রাসী নীতি চীনের জন্য উত্তেজনার অন্যতম প্রধান কারণ।  সেই সঙ্গে চীনের অভ্যন্তরে করোনা সংক্রমণ সাধারণ মানুষের জীবনকে গুরুত্ব না দেওয়া,  অভ্যন্তরীণ আর্থিক সংকট,  বেকারত্ব,  বিদেশী বিনিয়োগ কোম্পানির অন্যত্রে গমন,  বিশ্বজোড়া করোনা সংক্রমণের তদন্ত কমিশন গঠন,  হংকং স্বাধীনতা বিদ্রোহ,  তাইওয়ান স্বাধীনতা বিদ্রোহ,  তিব্বতের স্বাধীনতা বিদ্রোহ সবটা মিলিয়ে ঘরোয়া ভাবে কমিউনিস্ট চীন সরকার এবং সি জিং পিং অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধ কে ঠেকাতে কিংবা করোনার প্রভাব থেকে বিশ্বের দৃষ্টি ঘোরাতে ভারতের সঙ্গে সীমান্তে LAC নিয়ে বিবাদ উপস্থাপন করে সাধারণ চীনবাসীর চোখে এবং বিশ্ববাসীর চোখে ধুলো দিতে চাইছে । কমিউনিস্ট চীন সরকার  এই প্রচেষ্টা একমাত্র আভ্যন্তরীণ জনরোষের থেকে দৃষ্টি পরিবর্তনের কৌশল মাত্র। ভারতে অটল বিহারী সরকারের আমলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জর্জ ফ্রানারনডিস ৬১ টি স্ট্রাটেজিক সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। যার মধ্যে বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন ৭৫% কাজ শেষ করেছে।  এই রাস্তা গুলি সীমান্ত সুরক্ষার জন্য একান্ত আবশ্যক। ‌গত দেড় মাস ধরে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় ভূখণ্ডে সড়ক নির্মাণের কাজ নিয়ে অনৈতিক এবং এক্তিয়ার বহির্ভূত ভাবে চীনের পপুলার লিবারেশন আর্মি অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশ করার প্রচেষ্টা করছে । এই সীমান্ত আগ্রাসনের নীতি চীনের পক্ষ থেকে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষার বাহিনীকে প্ররোচনা দেওয়ার চেষ্টা এবং বিভিন্ন ভাবে উত্যক্ত করার প্রচেষ্টা ছাড়া কিছু নয় । সবটাই চীনের পরিকল্পিত। ভারতীয় সেনারা অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে বীরত্বের সাথে সেই পরিস্থিতির মোকাবেলা করছে।  প্রথমে ২২-২৩ মে লোকাল কমান্ডদের মধ্যেবৈঠক হয় তারপর ৩ রা জুন আঞ্চলিক আধিকারিকদের বৈঠক হয়। 

ভারতীয় বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন (BRO) পূর্ব লাদাখ ডারবুক শাইওক দৌলতবেগ ওল্ডি সড়ক নির্মাণ কার্য অনেক দিন ধরেই করছে। লাদাখের উত্তরের শেষ সীমান্ত পোস্ট দৌলতবেগ ওল্ডি। এই পোস্টের পরেই চীন সীমান্ত এবং কারাকোরাম পাস। এই সীমান্ত সড়ক সঙ্গে সিয়াচিন গ্লিসিয়ার ভূখণ্ডের সংযোগ যেমন রয়েছে তেমনি সেখানে গালওয়ানে দৌলতবেগ ওল্ডি ১৪০০০ ফুট উপরের সামরিক বিমান ঘাঁটি অবস্থিত। আর এই ভৌগোলিক অবস্থান এবং নির্মিত রাস্তা পাকঅধিকৃত কাশ্মীর – আকসাই চীনের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখার মূল ভর কেন্দ্র স্বরূপ বিশেষ মানচিত্রের অবস্থান  চীনের কাছে উদ্বেগের।  ভারতের পরিকাঠামো উন্নয়নই চীনের প্রকৃত মাথা ব্যাথার কারণ । অবশ্য ২০১৯ সালে লোকসভায় ধারা ৩৭০ বিলোপের পর সময় পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং চীনের অধিকৃত আকসাই চীনের দুটোই অভিন্ন ভারতের অংশ। এই বার্তা চীন ভালো ভাবে জানে আকসাই চীন ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যদিও লাদাখের ডারবুক সিয়ক দৌলতবেগ ওল্ডি 255 কিমি সড়ক ভারতীয় ভূখণ্ডের অন্তর্গত।  ভারতের এই সড়ক বিস্তার, বিমান ঘাঁটি পরিকাঠামো চীন পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর  CPEC  যা পাকিস্তানের গাওদৌর বন্দরে কয়েক দশকের প্রচুর আর্থিক বিনিয়োগ চীনের কপালে চিন্তার ভাঁজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীন মনে করছে CPEC উপর ভারত প্রভাব বিস্তার করবে। আবার উত্তরাখন্ডে লেপুলেগ পর্যন্ত ৮০ কিমি রাস্তা নির্মাণ যা চীন সীমান্ত কে স্পর্শ করলে নেপালকে সামনে রেখে চীন ভেটো দিচ্ছে। এছাড়াও আছে কাশ্মীরের অনন্তনাগে  NH 44 যুদ্ধ বিমান নামানোর জন্য  জরুরী বিমান অবতরণ ক্ষেত্র নির্মাণ করা হয়েছে।  উত্তরাখন্ডের  হারসিল সীমান্ত যা চীনের খুব কাছাকাছি সেখানে চীন থোংগিল মঠ আর সারেঙ্গে সামরিক বিমান ঘাঁটি নির্মাণ করে। ঠিক উল্টো দিকে ভারতীয় সীমান্তে ফরওয়ার্ড পোস্টে যাওয়ার জন্য বিশেষ রাস্তা নির্মাণ কার্য বৃদ্ধি করে।  এই খানে ভারতের নীলম উপত্যকা যা সমুদ্র থেকে ১২০০০ ফুট উঁচু। ভারতের অভ্যন্তরে এই সব নির্মাণ কার্য কমিউনিস্ট চীন মনে করে ভবিষ্যতে  ভারতবর্ষ বড় চীনকে নিয়ন্ত্রণ করার সমস্যা হয়ে অবস্থান করবে সমাজতান্ত্রিক চীনের সামনে। 

প্রথমে দুই দেশের আঞ্চলিক স্তরে হলেও সুরাহা হয়নি। এবং তারপর ৬ই জুন কমান্ড স্তরে ভারতীয় লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিন্দ্র সিং এবং চীনের জেনারেল পর্যায়ে লিওলিন বৈঠক হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট করে এবং সীমান্তে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উভয় দেশ নিজের অবস্থান থেকে পূর্ব অবস্থান এপ্রিল মাসের অবস্থানে স্থির হবে। যদিও বৈঠকে কোন সমাধান সূত্র আসে নি কিন্তু ভারত খুব স্পষ্ট করে বলে পাঁচটি দাবি রাখে যথা ১)LAC তে ভারত চীনের সীমানা নির্ধারণ, ২) সীমান্ত থেকে চীন সেনা পিছিয়ে নেবে,  ৩)এপ্রিল মাসে যে অবস্থানে চীনের সেনার অবস্থান ছিল সেই অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে চীনের সেনা কে। ৪) সীমান্ত ঘেঁষে রাস্তা চিন নিজে রাস্তা নির্মাণ করলে ভারত সীমান্ত ঘেঁষে কেন রাস্তা নির্মাণ করতে পারবে না।  ৫) ভারতের নির্মাণ কাজে চীনের আপত্তি থাকা উচিত নয়।  লাদাখ LAC র পার্শ্ববর্তী এলাকায় বাসিন্দাদের মতামত কয়েক দশক ধরে এমন সেনার চলন দেখা যায় নি।  চীন প্রায় পাঁচ হাজার সেনা নিয়োগ করে প্রতিরোধে ভারতও সমপরিমাণে সেনা নিয়োগ করে । চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিন পিং চীনের সেনাদের উদ্দেশ্য বলেন সেনাদের যে কোন রকম পরিস্থিতিতে তৈরী থাকতে হবে।  যুদ্ধের জন্য নিজেকে তৈরি করতে বলছেন। আরও বলেন জরুরী অবস্থায় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। যুদ্ধের প্রস্তুতি এবং অভিযান দরকার।  এই উক্তি লাদাখ সীমান্ত পরিপ্রেক্ষিতে খুবই তাৎপর্য পূর্ণ। এই অবস্থায় ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন সমাধান সূত্র হিসেবে সামরিক,  কূটনৈতিক বার্তালাপের মাধ্যমেই হবে।  আরও বলেন ভারতের মস্তক ঝুকবেনা। রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমতত্ব থাকবে।  সঙ্গে এই বার্তাও রাখেন সময়ের মধ্যেই জুলাই মাসের শেষে রাফাইল আসবে এবং একটি রাফাইল উত্তর পশ্চিমে কাশ্মীরের আম্বালাতে এবং আরেকটি উত্তর পূর্ব আলিপুরদুয়ারের হাঁসিমারাতে নিয়োগ করা হবে।  ফলে ইঙ্গিত যে চীন অপেক্ষা রাখে না খুব স্পষ্ট রাজনাথ সিং।  ভারত প্রসঙ্গে অপর দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশে মন্ত্রী মাইক পম্পি চীন নিয়ন্ত্রণ রেখায় সৈন্য বৃদ্ধি কে আগ্রাসী ভাবনার প্রকাশ বলে উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে ভারত আমেরিকার মধ্যস্থতাকারীর ইচ্ছা প্রকাশ কে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে ফিরিয়ে দেয়।  চীনের বিদেশ মন্ত্রকের প্রবক্তা ঝাও লিজিয়ান বলেন পরিস্থিতি স্থির নিয়ন্ত্রণ,  তৃতীয় পক্ষের দরকার নেই,  দুই দেশ কথা বার্তার মাধ্যমে সমাধান করবে। কিন্তু ইতি মধ্যেই কর্নেল স্তরের বৈঠকের পর উভয় পক্ষের সেনা দুই কিমি পিছনে যেতে সচেষ্ট হয়।  কিন্তু বৈঠকের বার্তালাপকে মান্যতা না দিয়ে পরিকল্পনা করে চীন বিশ্বঘাতকতা করে ১৫ ই জুন রাতে গালওয়ান উপত্যকার পয়েন্ট পোস্ট ১৪ তে পরিকল্পনা করে সংঘর্ষ করে । 

উভয় পক্ষের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং এই সংঘর্ষ চীনের পরিকল্পিত। ভারতীয় সেনারা লড়াই করতে করতে প্রত্যাঘাতের সহিত বীরগতি প্রাপ্ত হয়েছেন।  বীর ভারতীয় সৈনিকদের রক্ত বৃথা যাবেনা।  সামরিক আর্থিক কূটনৈতিক স্তরে ভারত চীনের যোগ্য জবাব দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে। ভারতবর্ষের সর্বত্র চীনের পণ্য বযকটেরসামরিক বাহিনীকে স্বতন্ত্র কাজ করার বিশেষ ছাড় দিয়েছে ভারত সরকার। লে লাদাখ থেকে উত্তরাখণ্ড সিকিম নাথুলা হয়ে অরুণাচল চীন সীমান্তে ITBP বাহিনীকে লাল সংকেত দিয়ে সবরকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চীনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের বক্তব্য ভারতকে দোষারোপ করেছে। চীনের গ্লোবাল টাইমস হাইড্রোজেন বোমা বিস্ফোরণের ছবি পোস্ট করে চোরের মা বড় গলার ভূমিকা পালন করছে।  সোশাল মিডিয়াতে লাদাখ ভুয়ো সামরিক যুদ্ধ অভ্যাসের বার্তা দিয়ে ভারতের উপর মানসিকতা চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে।  কিন্তু ভারত এই চাপে প্রভাবিত হবে না। কারণ অতিচালাক কমিউনিস্ট চীন কে সারা বিশ্ব করোনা দিয়ে নূতন ভাবে চিনতে পেরেছে। ভারত আন্তর্জাতিক বিশ্বে চীনের বিশ্বাস ঘাতকতার ছবি আরও স্পষ্ট করবে কূটনৈতিক ভাবে। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট করে বলেছেন ভারতবর্ষের সৈন্য আত্মত্যাগ আত্ম বলিদানের জন্য যেমন প্রস্তুত থাকে তেমনি বীর বিক্রম দেখাতে পিছ পা হয় না, এই বীর সৈনিকদের আত্ম বলিদান বিফলে যাবে না, ভারতবর্ষের সার্বভৌমতত্বের সঙ্গে কোন রকম  আপস করা হবে না। শ্রী মোদী আরও বলেন ভারত শান্তি চায় তবে আঘাত করলে যথাযথ যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। ভার্চুয়াল জগতে নয় বাস্তবের মাটিতে ইতিমধ্যেই ১৯ শে জুন থেকেই লাদাখ সীমান্তের বায়ুমণ্ডল জুড়ে সুখোই 35 A মিরাজ যুদ্ধ জাহাজ,  অ্যাপাচি,  চিনুকের মতন হেলিকপ্টার টহল দিচ্ছে।  লে বেসে ভারতীয় বায়ু সেনার প্রধান পৌঁছে গেছেন।  শ্রীনগর,  আম্বালা,  আদমপুর,  হাওয়ালারার বায়ুসেনার বেসে সব রকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।  ১৯৬২ সালের ভারতবর্ষ যে ২০২০ সালের ভারতবর্ষ রূপে অনেক বদলে গেছে তা স্পষ্ট। সামরিক – কূটনৈতিক – আর্থিক ভাবে যোগ্য জবাব পাবে চীনের কমিউনিস্ট সরকার। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।